একুশে ফেব্রুয়ারী

shohId minar

আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি আমি কি ভুলিতে পারি ছেলেহারা শত মায়ের অশ্রু-গড়া এ ফেব্রুয়ারি আমি কি ভুলিতে পারি আমার সোনার দেশের রক্তে রাঙানো ফেব্রুয়ারি আমি কি ভুলিতে পারি। জাগো নাগিনীরা জাগো নাগিনীরা জাগো কালবোশেখীরা শিশুহত্যার বিক্ষোভে আজ কাঁপুক বসুন্ধরা, দেশের সোনার ছেলে খুন করে রোখে মানুষের দাবী দিন বদলের ক্রান্তি লগনে তবু তোরা [...]

ভয় পেয়োনা

ভয় পেয়ো না, ভয় পেয়ো না, তোমায় আমি মারব না— সত্যি বলছি কুস্তি ক’রে তোমার সঙ্গে পারব না। মনটা আমার বড্ড নরম, হাড়ে আমার রাগটি নেই, তোমায় আমি চিবিয়ে খাব এমন আমার সাধ্যি নেই! মাথায় আমার শিং দেখে ভাই ভয় পেয়েছ কতই না— জানো না মোর মাথার ব্যারাম, কাউকে আমি গুঁতোই না? এস এস গর্তে [...]

বুঝিয়ে বলা

বুঝিয়ে বলা

ও শ্যামাদাস! আয়তো দেখি, বোস তো দেখি এখেনে, সেই কথাটা বুঝিয়ে দেব পাঁচ মিনিটে, দেখে নে৷ জ্বর হয়েছে? মিথ্যে কথা! ওসব তোদের চালাকি— এই যে বাবা চেঁচাচ্ছিলি, শুনতে পাইনি? কালা কি? মামার ব্যামো? বদ্যি ডাকবি? ডাকিস না হয় বিকেলে না হয় আমি বাৎলে দেব বাঁচবে মামা কি খেলে! আজকে তোকে সেই কথাটা বোঝাবই বোঝাব— না [...]

গল্প বলা

গল্প বলা

“এক যে রাজা”–”থাম্ না দাদা, রাজা নয় সে, রাজ পেয়াদা৷” “তার যে মাতুল”–”মাতুল কি সে?— সবাই জানে সে তার পিশে৷” “তার ছিল এক ছাগল ছানা”— “ছাগলের কি গজায় ডানা?” “একদিন তার ছাতের ‘পরে”— “ছাত কোথা হে টিনের ঘরে?” “বাগানের এক উড়ে মালী”— “মালী নয়তো! মেহের আলী৷” “মনের সাধে গাইছে বেহাগ”— “বেহাগ তো নয়! বসন্ত রাগ৷” [...]

বাবুরাম সাপুড়ে

বাবুরাম সাপুড়ে

বাবুরাম সাপুড়ে, কোথা যাস্ বাপুরে? আয় বাবা দেখে যা, দুটো সাপ রেখে যা— যে সাপের চোখ্ নেই, শিং নেই, নোখ্ নেই, ছোটে না কি হাঁটে না, কাউকে যে কাটে না, করে নাকো ফোঁস্ ফাঁস্, মারে নাকো ঢুঁশ্‌ঢাঁশ, নেই কোনো উৎপাত, খায় শুধু দুধ ভাত, সেই সাপ জ্যান্ত গোটা দুই আন্‌ত! তেড়ে মেরে ডাণ্ডা ক’রে দিই [...]

সৎপাত্র

সৎপাত্র

শুনতে পেলাম পোস্তা গিয়ে— তোমার নাকি মেয়ের বিয়ে ? গঙ্গারামকে পাত্র পেলে ? জানতে চাও সে কেমন ছেলে ? মন্দ নয় সে পাত্র ভালো রঙ যদিও বেজায় কালো ; তার উপরে মুখের গঠন অনেকটা ঠিক পেঁচার মতন ; বিদ্যে বুদ্ধি ? বলছি মশাই— ধন্যি ছেলের অধ্যবসায় ! উনিশটিবার ম্যাট্রিকে সে ঘায়েল হয়ে থামল শেষে । [...]

রবিবার

মুর্গির দোকানের লাইন মৃত্যুর থেকেও লম্বা। স্যাঁতস্যাঁতে দিন রক্তাক্ত বাতাস স্বপ্ন উদাসীন। প্রতিবাদী মন অর্বাচীনের আবিষ্কার। Critical mind এবে obsolete আপোষবিহীন জীবন আজ onsite call-এ ব্যাস্ত। হিসাবের খাতা মিলিয়ে মিলিয়ে পা ফেলি সাজানো বাগানের মত একটা দিন স্বপ্ন উদাসীন রবিবার।

জবানবন্দী

তারাহীন নক্ষত্রবিহীন আকাশ আছে চেয়ে। রাতভর গুলি চলার পর প্রথম সকালের স্বচ্ছ আলোর কিরণ কাঁচের ফলার মত এফোড়-ওফোড় করছে আমাকে রক্তে ভিজে যাওয়া শহরের অযাচিত এক কোনে লাল ওই গোলাপের মনে দেখো দেখা দিয়েছে ভোরের প্রথম শিশির জানি তোমরা শুনবে না তবু বলি এ রক্ত, এ গরল আমার নয়। আমার ছিল তারায় ভরা নক্ষত্রখচিত রাতের [...]

কাছের মানুষ

কালো রাতের জানলার ফাঁকে একফালি নাগরিক আকাশ আমার একমাত্র অবকাশ। রংবেরঙের কিছু স্মৃতি শুধু রইল পড়ে রইল দুধে-আলতা বিকেল বেলা অনিদ্রিত স্বপ্নমাখা সে এক রাত কিছু কবিতা, অনেক গান পুরনো কয়েকটা বই। আলো আঁধারে প্রতিক্ষণে যখন রক্তক্ষরণ ঘটে প্রাণে তখন সেই স্মৃতি হাতড়ে খুঁজে বেড়াই কাছে দূরে, নীলাভ আকাশের সবুজ ছায়ায় মুহূর্তের নিঃসঙ্গ স্তব্ধতা।

রিপোর্ট ১৯৭১

প্রাচ্যের গানের মতো শোকাহত, কম্পিত, চঞ্চল বেগবতী তটিনীর মতো স্নিগ্ধ, মনোরম আমাদের নারীদের কথা বলি, শোনো। এ-সব রহস্যময়ী রমণীরা পুরুষের কণ্ঠস্বর শুনে বৃক্ষের আড়ালে স’রে যায়- বেড়ার ফোঁকড় দিয়ে নিজের রন্ধনে তৃপ্ত অতিথির প্রসন্ন ভোজন দেখে শুধু মুখ টিপে হাসে। প্রথম পোয়াতী লজ্জায় অনন্ত হ’য়ে কোঁচরে ভরেন অনুজের সংগৃহীত কাঁচা আম, পেয়ারা, চালিতা- সূর্য্যকেও পর্দা [...]

বৃষ্টি ভেজা বাংলা ভাষা

কে মেয়েটি হঠাৎ প্রণাম করতে এলে ? মাথার ওপর হাত রাখিনি তোমার চেয়েও সসংকোচে এগিয়ে গেছি তোমায় ফেলে ময়লা চটি, ঘামের গন্ধ নোংরা গায়ে, হলভরা লোক, সবাই দেখছে তার মধ্যেও হাত রেখেছ আমার পায়ে আজকে আমি বাড়ি ফিরেও স্নান করিনি স্পর্শটুকু রাখব বলে তোমার হাতের মুঠোয় ভরা পুস্করিণী পরিবর্তে কী দেব আর ? আমার শুধু [...]

গতকাল একদিন

গতকাল বড়ো ছেলেবেলা ছিল আমাদের চারিধারে, দেয়ালের মতো অনুভূতিমাখা মোম জ্বালিয়ে জ্বালিয়ে আমারা দেখেছি শিখার ভিতরে মুখ । গতকাল ছিল জীবনের কিছু মরণের মতো সুখ । গতকাল বড়ো যৌবন ছিল শরীরে শরীর ঢালা, ফুলের বাগান ঢেকে রেখেছিল উদাসীন গাছপালা । আমরা দু’জনে মাটি খুঁড়ে-খুঁড়ে লুকিয়েছিলাম প্রেম, গতকাল বড় ছেলেবেলা ছিল বুঝিনি কী হারালাম ! গতকাল [...]

পতিগৃহে পুরোনো প্রেমিক

পাঁজরে প্রবিষ্ট প্রেম জেগে ওঠে পরাজিত মুখে, পতিগৃহে যেরকম পুরোনো প্রেমিক স্বামী ও সংসারে মুখোমুখি । প্রত্যাখ্যানে কষ্ট পাই,–ভাবি, মিথ্যে হোক সত্যে নাই পাওয়া । বুকের কার্নিশে এসে মাঝে-মধ্যে বসো প্রিয়তমা, এখানে আনন্দ পাবে, পাবে খোলা হাওয়া । সেই কবে তোমাকে বুনেছি শুক্রে, শুভ্র বীজে, যখন নদীর পাড় ঢাকা ছিল গভীর সবুজে । সময় খেয়েছে [...]

প্রথম কবি তুমি, প্রথম বিদ্রোহী

মাত্র পা রেখেছ কলেজে সেই বার, শব্দ দিয়ে গাঁথো পূর্ব সীমান্তে সাহসী ‘সীমান্ত’। দ্বিজাতিতত্ত্বের লোমশ কালো থাবা শ্যামল সুন্দর সোনার বাংলাকে করেছে তছনছ, গ্রাম ও জনপদে ভীতির সংসার, কেবল হাহাকার। টেবিলে মোমবাতি কোমল কাঁপা আলো বাহিরে বৃষ্টির সুরেলা রিমঝিম_ স্মৃতির জানালায় তোমার মৃদু টোকা। রূপার সংসারে অতিথি সজ্জন শিল্পী কতজন হিসেব রাখিনি তো! স্মরণে ওস্তাদ_ [...]

স্বর্গ হতে বিদায়

সমুদ্র শেষ হ’লো, আজ দুরন্ত অন্ধকার ডানা ঝাড়ে উড়ন্ত পাখির মতো | সমুদ্র শেষ হ’লো গভীর বনে আর হরিণ নেই, সবুজ পাখি গিয়েছে ম’রে, আর পাহাড়ের ধূসর অন্ধকারে দুরন্ত অন্ধকার ডানা ঝাড়ে উড়ন্ত পাখির মতো | সমুদ্র শেষ হ’লো, চাঁদের আলোয় সময়ের শূণ্য মরুভূমি জ্বলে |

মেঘদুত

পাশের ঘরে একটি মেয়ে ছেলে-ভুলানো ছড়া গাইছে, সে ক্লান্ত সুর ঝ’রে-যাওয়া পাতার মতো হাওয়ায় ভাসছে, আর মাঝে মাঝে আগুন জ্বলছে অন্ধকার আকাশের বনে | বৃষ্টির আগে ঝড়, বৃষ্টির পরে বন্যা | বর্ষাকালে, অনেক দেশে যখন অজস্র জলে ঘরবাড়ি ভাঙবে, ভাসবে মূক পশু ও মুখর মানুষ, শহরের রাস্তায় যখন সদলবলে গাইবে দুর্ভিক্ষের স্বেচ্ছাসেবক, তোমার মনে তখন [...]

পুর্ববর্তী 1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 পরবর্তী

একুশে ফেব্রুয়ারী

shohId minar

আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি আমি কি ভুলিতে পারি ছেলেহারা শত মায়ের অশ্রু-গড়া এ ফেব্রুয়ারি আমি কি ভুলিতে পারি আমার সোনার দেশের রক্তে রাঙানো ফেব্রুয়ারি আমি কি ভুলিতে পারি। জাগো নাগিনীরা জাগো নাগিনীরা জাগো কালবোশেখীরা শিশুহত্যার বিক্ষোভে আজ কাঁপুক বসুন্ধরা, দেশের সোনার ছেলে খুন করে রোখে মানুষের দাবী দিন বদলের ক্রান্তি লগনে তবু তোরা [...]

বিস্তারিত »

ভয় পেয়োনা

ভয় পেয়ো না, ভয় পেয়ো না, তোমায় আমি মারব না— সত্যি বলছি কুস্তি ক’রে তোমার সঙ্গে পারব না। মনটা আমার বড্ড নরম, হাড়ে আমার রাগটি নেই, তোমায় আমি চিবিয়ে খাব এমন আমার সাধ্যি নেই! মাথায় আমার শিং দেখে ভাই ভয় পেয়েছ কতই না— জানো না মোর মাথার ব্যারাম, কাউকে আমি গুঁতোই না? এস এস গর্তে [...]

বিস্তারিত »

বুঝিয়ে বলা

বুঝিয়ে বলা

ও শ্যামাদাস! আয়তো দেখি, বোস তো দেখি এখেনে, সেই কথাটা বুঝিয়ে দেব পাঁচ মিনিটে, দেখে নে৷ জ্বর হয়েছে? মিথ্যে কথা! ওসব তোদের চালাকি— এই যে বাবা চেঁচাচ্ছিলি, শুনতে পাইনি? কালা কি? মামার ব্যামো? বদ্যি ডাকবি? ডাকিস না হয় বিকেলে না হয় আমি বাৎলে দেব বাঁচবে মামা কি খেলে! আজকে তোকে সেই কথাটা বোঝাবই বোঝাব— না [...]

বিস্তারিত »

গল্প বলা

গল্প বলা

“এক যে রাজা”–”থাম্ না দাদা, রাজা নয় সে, রাজ পেয়াদা৷” “তার যে মাতুল”–”মাতুল কি সে?— সবাই জানে সে তার পিশে৷” “তার ছিল এক ছাগল ছানা”— “ছাগলের কি গজায় ডানা?” “একদিন তার ছাতের ‘পরে”— “ছাত কোথা হে টিনের ঘরে?” “বাগানের এক উড়ে মালী”— “মালী নয়তো! মেহের আলী৷” “মনের সাধে গাইছে বেহাগ”— “বেহাগ তো নয়! বসন্ত রাগ৷” [...]

বিস্তারিত »

বাবুরাম সাপুড়ে

বাবুরাম সাপুড়ে

বাবুরাম সাপুড়ে, কোথা যাস্ বাপুরে? আয় বাবা দেখে যা, দুটো সাপ রেখে যা— যে সাপের চোখ্ নেই, শিং নেই, নোখ্ নেই, ছোটে না কি হাঁটে না, কাউকে যে কাটে না, করে নাকো ফোঁস্ ফাঁস্, মারে নাকো ঢুঁশ্‌ঢাঁশ, নেই কোনো উৎপাত, খায় শুধু দুধ ভাত, সেই সাপ জ্যান্ত গোটা দুই আন্‌ত! তেড়ে মেরে ডাণ্ডা ক’রে দিই [...]

বিস্তারিত »

সৎপাত্র

সৎপাত্র

শুনতে পেলাম পোস্তা গিয়ে— তোমার নাকি মেয়ের বিয়ে ? গঙ্গারামকে পাত্র পেলে ? জানতে চাও সে কেমন ছেলে ? মন্দ নয় সে পাত্র ভালো রঙ যদিও বেজায় কালো ; তার উপরে মুখের গঠন অনেকটা ঠিক পেঁচার মতন ; বিদ্যে বুদ্ধি ? বলছি মশাই— ধন্যি ছেলের অধ্যবসায় ! উনিশটিবার ম্যাট্রিকে সে ঘায়েল হয়ে থামল শেষে । [...]

বিস্তারিত »

একুশের শুভেচ্ছা


কবির নাম

আমাদের অতিথি